
বাংলাদেশের ই-কমার্স খাত দিন দিন আরও বেশি প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠছে। প্রতিদিন শত শত নতুন পেজ ও ব্র্যান্ড বাজারে আসছে। কিন্তু একটু লক্ষ্য করলেই দেখা যায়, শুরুর দিকে কিছু অর্ডার পেলেও অনেক উদ্যোক্তা দীর্ঘস্থায়ী বা টেকসই গ্রোথ (Sustainable Growth) ধরে রাখতে ব্যর্থ হচ্ছেন। সাময়িক কিছু সেলস আর সত্যিকারের ব্র্যান্ড গ্রোথ এক জিনিস নয়।
আপনার ই-কমার্স বিজনেসকে প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখতে এবং দীর্ঘমেয়াদে সফল করতে কোন কৌশলগুলো মেনে চলা দরকার, তা নিচে আলোচনা করা হলো:
১. প্রোডাক্ট কোয়ালিটি ও কাস্টমার এক্সপেরিয়েন্সে আপস না করা
গ্রাহক ধরে রাখার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো পণ্যের মান এবং আস্থার সম্পর্ক।
- পেজে একরকম ছবি দেখিয়ে কাস্টমারের হাতে অন্যরকম বা লো-কোয়ালিটি প্রোডাক্ট পৌঁছে দিলে সেই কাস্টমার আর দ্বিতীয়বার আপনার কাছে ফিরবে না।
- আনবক্সিং এক্সপেরিয়েন্স থেকে শুরু করে ডেলিভারি পাওয়ার আগ পর্যন্ত পুরো জার্নিটা স্মিথ রাখা জরুরি। একটি ভালো অভিজ্ঞতা একজন কাস্টমারকে আপনার পার্মানেন্ট ফ্যান বা ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডরে পরিণত করতে পারে।
২. ট্রাস্ট ও ব্র্যান্ড ভ্যালু তৈরি করা (Trust Building)
নতুন কাস্টমাররা সহজে অপরিচিত কোনো পেজ বা ওয়েবসাইট থেকে অনলাইনে পেমেন্ট করতে বা বড় অঙ্কের অর্ডার দিতে ভয় পান। এই ট্রাস্ট ইস্যু দূর করার জন্য দরকার জোরালো ব্র্যান্ডিং:
- প্রফেশনাল ওয়েবসাইট বা ল্যান্ডিং পেজ ব্যবহার করা, যেখানে কন্টাক্ট ইনফরমেশন, রিটার্ন পলিসি এবং রিয়েল কাস্টমার রিভিউ স্পষ্টভাবে দেওয়া থাকে।
- রেগুলার ভ্যালুয়েবল কন্টেন্ট, রিয়েল লাইফ প্রোডাক্ট ভিডিও এবং পেজের একটি পরিপাটি লুক ব্র্যান্ডের বিশ্বাসযোগ্যতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
৩. শুধু নিউ কাস্টমার নয়, রিটেনশন ও রিপিট সেলসে ফোকাস করা
বেশিরভাগ ই-কমার্স উদ্যোক্তার ভুল ফোকাস থাকে শুধু নতুন কাস্টমার পাওয়ার পেছনে (Acquisition)। অথচ মার্কেটিং কস্ট বা CAC (Customer Acquisition Cost) দিন দিন যেভাবে বাড়ছে, তাতে শুধু নতুন কাস্টমারের ওপর ভরসা করে প্রফিট করা কঠিন।
- যারা একবার আপনার থেকে কিনেছেন, তাদের জন্য এসএমএস মার্কেটিং, ইমেইল মার্কেটিং বা স্পেশাল ডিসকাউন্ট অফার সেট করুন।
- পুরনো কাস্টমারদের কাছে পণ্য বিক্রি করা অনেক সহজ এবং এতে প্রফিট মার্জিনও বেশি থাকে।
৪. ডেটা-ড্রাইভেন ডিসিশন বা সঠিক হিসাব নিকাশ রাখা
ব্যবসা বড় করতে হলে অনুমানের ওপর নির্ভর না করে সঠিক ডেটা বা হিসাবের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
- আপনার প্রতি মাসে টোটাল কত সেল হলো সেটা বড় কথা নয়, বরং নেট প্রফিট কত থাকছে সেটাই আসল।
- প্রোডাক্ট কস্ট, প্যাকেজিং, অ্যাড স্পেন্ড, অফিস বা গোডাউন খরচ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—কুরিয়ার রিটার্ন লস বা পার্সেল রিফিউজ হওয়ার খরচ বাদ দিয়ে প্রতিটি পণ্যের সঠিক প্রফিট মার্জিন হিসাব করুন।
৫. মাল্টি-চ্যানেল মার্কেটিং ও সঠিক ফানেল তৈরি করা
শুধু ফেসবুক পেজ বা ইনবক্সনির্ভর বিজনেস মডেল দিয়ে এখন আর বড় গ্রোথ আনা সম্ভব নয়।
- ফেসবুকের পাশাপাশি একটি প্রফেশনাল ই-কমার্স ওয়েবসাইট বা ল্যান্ডিং পেজ থাকা বাধ্যতামূলক।
- ট্রাফিক আনার জন্য মেটা অডের পাশাপাশি অর্গানিক রিচ বাড়াতে এসইও (SEO), ইউটিউব শর্টস বা রিলস এবং ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিংয়ের সাহায্য নিতে পারেন। কাস্টমারকে একটি নির্দিষ্ট সেলস ফানেলের মধ্য দিয়ে নিয়ে আসলে কনভার্শন রেট অনেক বেড়ে যায়।